অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেলে প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে

0

আমরা কারণে-অকারণে যে ঘুমের ওষুধ সেবন করি, আমরা কি জানি এর অপকারীতা ও ক্ষতিকর দিকসমূহ? এক জরিপে দেখা গেছে বর্তমানে বাংলাদেশের তরুন-তরনীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ডাক্তাররা বলেন, ঘুম ভালো হওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুমের ওষুধ নেয়া হলেও এ অভ্যাসের দীর্ঘকালীন প্রভাব পড়ে শরীরে ওপর। আসুন জেনে নেই ঘুমের ওষুধের অপকারীতা ও ক্ষতিকর দিক গুলো সম্পর্কে।

অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের ক্ষতিকর দিকসমূহঃ

১. নেশাঃ নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে খেতে ওষুধের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। ওষুধ ছাড়া ঘুমই আসতে চাই  না। তাই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

২. ব্যবহারে পরিবর্তনঃ অনেক সময় ঘুমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে মানুষের আচার ব্যবহারের পার্থক্য তৈরি হতে পারে। খিটখিটে মেজাজ প্রভৃতি নানা রকমের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

৩. নির্ভরশীলতাঃ নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে খেতে ওষুধে শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায়, যার ফলে একসময় ওষুধ শরীরের কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়, তখন ওষুধের মাত্্রা বাড়াতে হয়। দীর্ঘসময় ধরে এমনটা চলতে থাকলে একসময় সত্যিই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

৪. অবসাদঃ ঘুমের ওষুধের কারণে কারও কারও ক্ষেত্রে মানসিক রোগের সমস্যা, অতিরিক্ত রাগ ও হতাশার মত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

৫. মৃত্যুঃ অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আবার অনেক সময় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেলে প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে, কোমায় চলে যেতে পারে, স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে।

কেই যদি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে তাহলে যা করতে হবে:

১. রোগীকে যতদ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

২. হালকা গরম পানিতে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে তা দিয়ে রোগীর পাকস্থলী ধুতে হবে।

৩. প্রয়োজনে রোগীকে অক্সিজেন অথবা কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস দিতে হবে।

৪. শিরা-পথে রোগীকে স্যালাইন দিতে হবে।

৫. যদি অনেকক্ষণ আগে ঘুমের ওষুধ সেবন করে থাকে তাহলে মূত্রবর্ধক ওষুধ দিয়ে যতদ্রুত সম্ভব রোগীকে প্রস্রাব করাতে হবে।

৬. রোগী যদি অনেকক্ষণ ধরে অচেতন থাকে, তাহলে নাকে নল দিয়ে তাকে দুধ ও গ্লুকোজ খাওয়াতে হবে।

Share:
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *