ভাইরাস কী? পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ংকর কয়েকটি ভাইরাস

ভাইরাস অতি আণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয়, যারা জীবিত কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ভাইরাস জীব কিনা, এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও দ্বিমত আছে। ভাইরাস জীবিত কোষের ভিতরেই মাত্র বংশবৃদ্ধি করতে পারে এরা একপ্রকার অতিক্ষুদ্র জৈব কণা বা ’অণুজীব’। ভাইরাস হচ্ছে ল্যাটিন শব্দ ভাইরাসের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে ”বিষ”। আদীম-কালে ’রোগ’ সৃষ্টিকারী যে কোন বিষাক্ত-পদার্থকে বলা হত ভাইরাস।

ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে অবস্থান করতে পারে। আবার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় মাটি পানি বায়ু ইত্যাদি প্রায় সব জড় মাধ্যমে ভাইরাস অবস্থান করে। এক কথাই বলা যায়, জীব ও জড় উভয়ই পরিবেশেই ভাইরাসের বসবাস। ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া থেকেও ক্ষুদ্র এদের ইলেকট্রন-অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায়না। ভাইরাস সাধারনত গোলাকার, দণ্ডাকার, বর্তুলাকার, সূত্রাকার, পাউরুটি আকার, বহুভুজাক্রিতি, ব্যাঙ্গাচি আকারের হয়ে থাকে ।

পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ংকর কয়েকটি ভাইরাস
প্রাচীনকাল থেকে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছেন যে অতি আণুবীক্ষণিক ক্ষুদ্র দানব তার নাম ভাইরাস। পৃথিবীর ইতিহাসে জানা অজানা অনেক মারাক্তক ভাইরাস আছে এর মধ্যে ৬টি ভাইরাসকে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। সেই ৬টির সাথে আরেকটি যোগ হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত একটি নাম সেটি হচ্ছে করোনা ভাইরাস।

ইবোলা ভাইরাস:
পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ংকর ভাইরাসের নাম ইবোলা ভাইরাস। ইবোলা ভাইরাসের নাম শুনেননি এমন মানুষ খুব কমই দেখা যাবে। এই ভাইরাসে মানুষের মৃত্যু হার সবচেয়ে বেশি। এই ভাইরাস আক্রান্তদের মৃত্যুর হার হয় ৫০% থেকে ৯০% এর মধ্যে। কিছু কিছু প্রাণীর শরীরে ও রক্তে এ ভাইরাস বসবাস করে। এ ভাইরাসটি বহন করছে মূলতঃ কয়েক প্রজাতির বানর ও কলাবাদুড়। ইবোলা সাধারনত বায়ুবাহিত রোগ নয় এটি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে রক্ত, লালা, ডায়রিয়া, বমি, পানি ইত্যাদির স্পর্শে এটি অন্যের দেহে ছড়াতে পারে। ১৯৭৬ সালে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয়। ইবোলা ভাইরাসের পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে – ইবোলা জায়ারে, ইবোলা সুদান, ইবোলা আইভোরি কোস্ট, ইবোলা রেস্টন এবং ইবোলা বুন্দিবুগিও। এ নামকরণ গুলো ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন এলাকার নাম অনুসারে হয়েছে।

রেবিজ ভাইরাস:
রেবিজ-ভাইরাস একধরনের নিউরোট্রপিক-ভাইরাস যা মানুষ ও প্রাণীর দেহে রেবিজ রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এই ভাইরাস সাধারণত প্রাণী ও মানুষের লালার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। রেবিজ ভাইরাস সাধারণত কুকুর, বিড়াল, বাদুড়, ভোঁদড় প্রভৃতি প্রাণীর কামড়ের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। এ ভাইরাসের সংক্রমণে যে রোগটি হয় তার নাম “জলাতঙ্ক”। এটি খুবই মারাক্তক একটি ব্যধি। সারাবিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৫০ হাজার মানুষ রেবিজ ভাইরাসের ফলে জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যু বরণ করে।

একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের মুক্তি রয়েছে কালোজিরাতে-

মারবুর্গ ভাইরাস:
এটি ইবোলা-ভাইরাসের থেকে একটু কম ’মারাত্মক। তবে ইবোলা-ভাইরাস ও মারবুর্গ ভাইরাসের অনেক মিল আছে। এই ভাইরাস আক্রান্তদের মৃত্যুর হার প্রায় ৮০% হয়ে থাকে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ৫ থেকে ৭ দিনে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রচণ্ড জ্বর এবং সেই সঙ্গে রক্তবমি, মলের সঙ্গে রক্ত, নাক, দাঁতের মাড়ি এবং যোনিপথে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ ভাইরাস খুব সহজেই সংক্রামিত হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশার কারণে তার মল, প্রস্রাব, লালা বা বমির মাধ্যমে মারবুর্গ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে থাকে।

ডেঙ্গু ভাইরাস:
এডিস মশার কামড়ের ফলে যে ভাইরাস সংক্রামিত হয় সেটি হচ্ছে ডেঙ্গু। অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কম বিপজ্জনক। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের ৩ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। এই ভাইরাসটির উপসর্গ সাম্প্রতিককালে ইউরোপেও দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গু ভাইরাসে প্রভাবে সারাবিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। একটু সচেতনতা ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এছাড়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডেঙ্গু ভাইরাস-সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয়:
ডেঙ্গু জ্বর হলে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার খাইতে করতে হবে। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক রূপ ধারণ করলে রোগীকে রক্ত দিতে হতে পারে।

অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনের অপকারীতা

এইচআইভি(HIV) অথবা এইডস ভাইরাস:
HIV ভাইরাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে নানা সংক্রামক রোগ এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ে। মানুষের শরীরে এই ভাইরাস একবার সংক্রমিত হলে তা সম্পূর্ণ দূর করা এখনো সম্ভব নয়। তাই শেষপর্ষন্ত আক্রান্ত রোগীর এইডস হওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়।
এই ভাইরাসটি সাধারনত যৌন-মিলনের সময়, রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে এবং মা থেকে সন্তানের সংক্রমণ ঘটে থাকে। বায়ু, পানি, খাবার অথবা সাধারণ ছোঁয়ায় সংস্পর্শে HIV ছড়ায় না। মানবদেহের কয়েকটি নির্দিষ্ট তরল পদার্থে যেমন রক্ত, বীর্য ও বুকের দুধে বেশি থাকে। যার ফলে, মানব দেহের এই তরল পদার্থগলো আদান প্রদানের মাধ্যমে HIV ছড়াতে পারে। এই রোগ প্রতিরোধ হিসেবে সচেতনতাকেই এর একমাত্র প্রতিরোধক বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

করোনা ভাইরাস:
বর্তমান বিশ্ব জুড়ে ভয়ংকর এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস নভেল করোনা (Covid-19)।
করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আমরা সকলের মোটামুটি ধারনা আছে তাই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বেমি কিছু লিখলাম না। তবে একটি কথা না বললেই নয়, এটি অতি মাত্রায় ছড়ালেও প্রতি একশ জনে প্রাণ হারিয়েছে চার জনের কম ব্যক্তি এছাড়া অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে সেরে উঠেছে।

আমাদের এই তথ্যবহুল আর্টিকেলটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং আপনার বন্ধুদেরও জানার সুযোগ করে দিন।

জেনে রাখুন পেয়ারার ১০ টি উপকারিতা

 

Share:

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *