হাঁস পালন করে লাখপতি

0

*যেসব কারণে হাঁস পালনে সহজেই লাভবান হওয়া যায় তা আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আমাদের দেশে হাঁস পালন তুলনামূলকভাবে সহজ ও লাভজনক পেশা। হাঁস পালনকরে অনেকেই সচ্ছল জীবনফিরে পেয়েছেন। বসতবাড়িতে হাঁস পালন করে অনেকেই তাদের দারিদ্রতা দূর করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। অনেকেই আবার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাঁসের খামার গড়ে তুলছেন। উন্নতজাতের একটি হাঁস বছরে ৩০০টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। আসুন জেনে নেই যেসব কারণে হাঁস পালনে সহজেই লাভবান হওয়া যায়:*

যে কারণে হাঁস পালন করে সহজেই লাভবান হওয়া যায় তা নিচে দেওয়া হল-

  • হাঁসের ডিম মুরগির ডিমের দামের তুলনায় বেশি দামি।
  • হাঁসের ডিমে মুরগির চেয়ে বেশি প্রটিন থাকে।
  • হাঁসের খামারে এন্টিবায়টিক প্রয়োগ করা লাগে না।
  • হাঁসের বাচ্চার দাম মুরগির বাচ্চার চেয়ে কম।
  • হাঁসের প্রাকৃতিক খাদ্য মুরগির তুলনায় বেশি পাওয়া যায়।
  • হাঁসের মাংসের মুল্য মুরগির তুলনায় বেশি।
  • হাঁসের ডিম মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি স্বাদ।
  • হাঁসের ও মাছ চাষ এক সাথেই করা যায়, ফলে অধিক লাভবান হওয়া যায়।
  • খাকি কেম্বেল হাঁস বছরে ২৯০ টি পযর্ন্ত ডিম দেয়।
  • ডিম পাড়া শেষে হাসের ভাল দাম পাওয়া যায়।
  • হাঁস পালন মুরগির চেয়ে বেশি সহজ।
  • হাঁসের দলকে এক স্থানে স্বচ্ছন্দে আটকিয়ে বা আবদ্ধ করে পালন করা যায়।
  • মুরগির তুলনায় হাঁসের রোগ- বালাই কম হয়ে থাকে।
  • কোনো জলাশয়ের পাড়ে টিনের চালা দিয়ে হাঁসের ঘর তৈরী করা যায়।
  • হাঁস সাধারন সকালের দিকেই ডিম পেড়ে থাকে। ফলে কিছুটা নিরাপদ জায়গা হলে হাঁসের ডিম হারানোর কোন ভয় থাকে না।
  • জলজ শেওলাজাতীয় উদ্ভিদ এবং শামুক ঝিনুক ইত্যাদি হাঁসের খুব প্রিয় খাদ্য। এসব খাদ্য হাঁস নিজের প্রচেষ্টায় গ্রহন করে বলে খাদ্য সংগ্রহে কিছুটা সাশ্রয় হয়।
  • হাঁসের ঘর মুরগির চেয়ে কম খরচে করা যায়।
  • হাঁসের বিষ্টা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
  • হাঁস পানিতে চরে তার খাদ্যের অর্ধেক সংগ্রহ করে বাকি অর্ধেক খাবার ঘরে দিতে হয়।
  • হাঁসের বিষ্ঠা কৃষিজমির জন্য উৎকৃষ্ট মানের সার।
  • হাঁসের ডিমের খোসা ও খোসার নিচের আবরন অপেক্ষাকৃত মোটা বলে হাঁসের ডিম আমাদের দেশে উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়ায় সহজে নষ্ট হয় না।

১ মিনিটে ছাড়ান ১ কেজি রসুনের খোসা!

 

কিভাবে একটি হাসের খামার করবেন? খুব সহজেই ৫০০ হাঁস পালনের জন্য খামার তৈুর করতে পারবেন। কিভাবে সুন্দর একটি হাসের খামার তৈরি করতে হয় পর্যায়ক্রমে দেখানো হলো-

হাঁস সংগ্রহঃ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় হাঁসের খামার, খুলনার দৌলতপুর হাঁসের খামার অথবা বিভিন্ন বেসরকারি  খামার থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করা যায়। নিম্নে ৫০০ টি হাঁস পালনের তথ্যাদি উল্লেখকরা হলো।

 

ডিম দেওয়া ৫০০ হাঁসপালনের যাবতীয় তথ্যাদিঃ

প্রতিটি হাঁসের জন্য ২ বর্গফুট হিসেবে ১০০০ বর্গফুটের ঘর তৈরি করতে হবে। হিসেবে১০০০ বর্গফুট। ঘর যদি কাঁচা হয় তাহলে প্রতি হাঁসের জন্য ১০ বর্গফুট হিসেবে ৫০০০ বর্গফুটের ঘর করতে হবে।  ৬ মাস পর্যন্ত হাঁস পালন করতে প্রতি হাঁসের জন্য ১৫কেজি খাবার দরকার হবে। ৬মাস পর প্রতি হাঁসের জন্য দৈনিক ১৫০ গ্রাম খাবার লাগবে।

 

অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতিঃ

ফিডার বাফিড হপার টিন বা প্লাস্টিকের বা কাঠের তৈরি এবং উভয় দিক দিয়ে খেতে পারে এরূপ ৪ ফুট লম্বা ১০টি ফিডার।

লিটারঃ ধান বা গমের খড়, ধানের তুষ ব্যবহার করা যায়, তবে খড় ব্যবহার করাই উত্তম;

ডিম পাড়ার ঘর: হাঁসের জন্য ডিম পাড়ার ঘর তেমন দরকার হয় না। মূলঘরের কোনায় বা দেয়ালের সঙ্গে ধানের খড় দিলে এতে হাঁস ডিম দেবে এবং ওই ডিম পরিষ্কার থাকবে।

১ মিনিটে কচুর লতি পরিস্কার করার সহজ উপায়

৬ মাস বয়স পর্যন্ত খরচ কেমন হতে পারে?

৫০০ বাচ্চার দাম প্রতিটি ২০ টাকা হিসেবে ১০ হাজার টাকা।৬ মাস বয়স পর্যন্ত ৫০০ বাচ্চার খাবার খরচ (খাবার ৬ মাস বয়স পর্যন্ত ১৫ কেজি এবং প্রতি কেজি খাবারের মূল্য ২0 টাকা) ১,৫০,০০০ টাকা। অন্যান্য খরচ বাবদ ৫,০০০টাকা।

 

৬ মাস বয়সের পর ডিম ও খাবারের হিসাব

দৈনিক ৫০০ হাঁসের খাদ্য (প্রতিটির জন্য ১৫০ গ্রাম) = ৭৫কেজি। প্রতি কেজি 20 টাকা হারে ১৫০০ টাকা। দৈনিকডিম উত্পাদন (৬০% উৎপাদন হিসেবে) ৩০০টি। ১০০ডিম = ৮০০ টাকা হিসেবে)  ২৪০০ টাকা, ১ মাসের খাবার খরচ বাদে থাকে(২৪০০-১৫০০) * ৩০ = ২৭,০০০ টাকা।

ছোট খামার হিসেবে জমির দাম, ব্যবস্থাপনা খরচা ইত্যাদি বিবেচনা না করে শুধু বাচ্চার মূল্য, খরচ ও শ্রমিক বিবেচনা করা হয়েছে। বাচ্চা মর্দা এবং মাদী শনাক্ত করা না থাকলে ৬০০ বাচ্চা ক্রয় করতেহবে। অন্যথায় ৫৫০টি বাচ্চা ক্রয় করলেই চলবে। মৃত্যুর হার ৬ মাস বয়স পর্যন্ত ৫% ধরা হয়েছে বলে ৫০০ হাসের জন্য ৫০টি বাচ্চা বেশি ক্রয় করতে হবে। দুই মাস বয়স পর্যন্ত মর্দা বাচ্চা পালন করতে যা খরচ হবে, ওই বয়সে ওই বাচ্চাগুলো বিক্রয় করে খরচের টাকা উঠে যাবে। তাই কেবল ৫৫০ টি বাচ্চার খাদ্য খরচ দেখানো হলো।

Share:
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *